চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের নতুন হাপানিয়া গ্রামে প্রবাসীর পুরুষশূন্য বাড়িতে সংঘটিত বৃদ্ধা পারুল বেগম (৭০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ।
পরকীয়ার সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে নিহতের পুত্রবধূ হালিমা আক্তার (২৭) এবং তার পাশের বাড়ির প্রতিবেশী আশরাফুল ইসলাম মিঠু (৩০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) দুপুর ১২টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন জাবির হুসনাইন সানীব, সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল)। এ সময় থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার শুরুতে এটি ডাকাতির ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও তদন্তের একপর্যায়ে পরকীয়াজনিত পূর্বপরিকল্পিত হত্যার তথ্য সামনে আসে। গ্রেপ্তারকৃত হালিমা আক্তার ও মিঠু জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে ইতালি প্রবাসী নুর ইসলামের স্ত্রী হালিমা আক্তারের সঙ্গে প্রতিবেশী অবিবাহিত যুবক আশরাফুল ইসলাম মিঠুর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একই সময়ে নুর ইসলামের প্রথম স্ত্রীর সন্তান ইতালিতে বসবাসরত সোহানের সঙ্গে অনলাইন ব্যবসার কথা বলে প্রায় তিন লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন মিঠু। পরে সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় হালিমাকে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি।
তদন্তে আরও উঠে আসে, পারুল বেগমের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবে হালিমা প্রথমে রাজি না হলে মিঠু তার স্বামীকে পরকীয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে চাপের মুখে হালিমা হত্যার পরিকল্পনায় সহায়তা করতে সম্মত হন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মিঠু গোপনে প্রবাসী নুর ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করেন। হালিমার সহযোগিতায় পারুল বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে মিঠু শ্বাসরোধ করে পারুল বেগমকে হত্যা করেন এবং তার স্বর্ণালংকার লুট করে নেন। ঘটনার সময় হালিমা পাশেই অবস্থান করে সহযোগিতা করেন। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে চালানোর উদ্দেশ্যে পরে হালিমার হাত-পা বেঁধে রাখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সাহেরা বেগম জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে শিশুদের কাছ থেকে পারুল বেগম ও হালিমার অবস্থার কথা জানতে পারেন। পরে ঘরে ঢুকে পারুল বেগমকে উপুড় অবস্থায় মৃত এবং হালিমাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসে।
নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী নুরুন্নাহার বেগম অভিযোগ করে বলেন, তাদের সংসারে কোনো আর্থিক সংকট ছিল না। পরকীয়ার জেরে তার মাকে হত্যা করে একটি পরিবারকে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতলব সংবাদ ll নিউজ ডেস্ক